তারিখ: ২৬ মার্চ, ২০২৬বিষয়: যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি এবং ইরানের পাল্টা ৫ শর্ত।পটভূমিদীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি একটি ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব (15-Point Proposal) পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পাঠিয়েছিল। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম (Press TV) নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহল এই প্রস্তাবটিকে “অবাস্তব” এবং “একতরফা” আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রস্তাবসমূহ (কি কি শর্ত ছিল?)যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা কমিয়ে আনা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ: ইরানের সমস্ত পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের অবাধ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া।ব্যালিস্টিক মিসাইল সীমাবদ্ধতা: ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসীমা এবং নির্ভুলতা কমিয়ে আনার জন্য কঠোর সীমা নির্ধারণ।হরমুজ প্রণালী: পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সেখানে কোনো ধরনের বাধা না দেওয়া।আঞ্চলিক প্রভাব ত্যাগ: হিজবুল্লাহ, হামাস এবং হুথি বিদ্রোহীদের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা বন্ধ করা।কূটনৈতিক ছাড়: বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র পর্যায়ক্রমে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এবং হিমায়িত অর্থ (Frozen Assets) ছাড় করার প্রস্তাব দেয়।ইরানের পাল্টা ৫ দফা দাবি (Counter-Proposal)ইরান এই ১৫ দফাকে প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব ৫টি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তাদের মতে, এই শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়:আগ্রাসন বন্ধ: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমস্ত সামরিক হামলা এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর ‘টার্গেট কিলিং’ বা হত্যাকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।নিরাপত্তার গ্যারান্টি: ভবিষ্যতে যেন পুনরায় কোনো নিষেধাজ্ঞা বা যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া না হয়, তার জন্য আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা দিতে হবে।ক্ষতিপূরণ: যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতির যে বিপুল ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ’ (War Reparations) প্রদান করতে হবে।একযোগে যুদ্ধবিরতি: কেবল ইরান নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে (লেবানন, ইয়েমেন, গাজা) যুদ্ধ একযোগে বন্ধ করতে হবে।সার্বভৌমত্ব: হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সার্বভৌম অধিকার এবং নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকার করে নিতে হবে।বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রভাবইরানের এই অনড় অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে যে তারা এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখছে, তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাদের ৫ শর্ত পূরণ না হলে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে না।

