খেলাধুলা ডেস্ক | khulnapedia.com
প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ১৬-এর নকআউট পর্বে গতকাল মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা এবং মিশর। মাঠের লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে আর্জেন্টিনা জয়ী হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও, ম্যাচটি এখন ফুটবল ছাড়িয়ে রূপ নিয়েছে মাঠের বাইরের তুমুল বিতর্কে। ফরাসি রেফারি ফ্রঁসোয়া লেতেক্সিয়ে (François Letexier) এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR)-এর বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
মিশরীয় ফুটবল ভক্ত ও বিশ্লেষকদের দাবি— রেফারির একপেশে ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই একটি ঐতিহাসিক জয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে ‘দ্য ফারাও’রা। ম্যাচে রেফারির যে প্রধান ভুল ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে তোলপাড় চলছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
- Advertisement -

১. মিশরের ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার গোলটি বাতিল (সবচেয়ে বড় বিতর্ক)
ম্যাচের সবচেয়ে বড় নাটকীয়তা তৈরি হয় ৫৮ মিনিটে। কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে মিশরের উইঙ্গার মোস্তফা জিকো বল আর্জেন্টিনার জালে জড়ালে পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে মেতে ওঠে। কিন্তু হঠাৎই ভিএআর (VAR) রেফারিকে অন-ফিল্ড মনিটর চেক করার অনুরোধ জানায়।
- বিতর্কের কারণ: গোলটি হওয়ার প্রায় ৩০ সেকেন্ড আগে মাঠের অন্য প্রান্তে মিশরের মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জার্সি টেনেছিলেন। ফুটবল নিয়মানুযায়ী বিল্ড-আপের ফাউল বাতিল করা গেলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে— বলটি অনেক দূর ঘুরে সম্পূর্ণ নতুন প্লে-তে গোল হওয়ায় এত আগের ফাউল টেনে এনে গোল বাতিল করাটা ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং অযৌক্তিক। এই একটি সিদ্ধান্ত পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
২. ফাউল ও পেনাল্টির ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি (Inconsistency)
ম্যাচজুড়ে রেফারির ফাউল ধরার ক্ষেত্রে দুই দলের জন্য দুই রকম নীতি বা ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
- প্রথমার্ধে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে বক্সের ভেতর ফাউল করায় আর্জেন্টিনার পক্ষে পেনাল্টি দিতে রেফারি বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি (যদিও লিওনেল মেসি সেই পেনাল্টি মিস করেন)।
- কিন্তু ম্যাচের অন্য প্রান্তে মোহাম্মদ সালাহকে বক্সের ঠিক বাইরে লিয়েন্দ্রো পারেদেস ফাউল করলেও রেফারি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান এবং খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
৩. আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মিশরের পেনাল্টি না পাওয়া
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে স্কোর যখন ২-২, তখন আর্জেন্টিনার ডি-বক্সের ভেতর মিশরের হামদি ফাথিকে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার জার্সি টেনে ধরে ফেলে দেন। মিশরীয় খেলোয়াড়রা পেনাল্টির জন্য জোরালো আবেদন করলেও রেফারি তা নাকচ করে দেন।
- সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: গোল বাতিলের সময় ৩০ সেকেন্ড আগের ঘটনা নিখুঁতভাবে চেক করা হলেও, মিশরের এই পেনাল্টির দাবিটি VAR ন্যূনতম রিভিউ পর্যন্ত করেনি! এর ঠিক পরের কাউন্টার-অ্যাটাক থেকেই এনজো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টিনার হয়ে জয়সূচক (৩-২) গোলটি করেন।
৪. কার্ড বিতরণে একপেশে আচরণ
রেফারির এমন সব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মাঠেই প্রতিবাদ জানান মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা। কিন্তু রেফারি শান্তভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করে একের পর এক কার্ড দেখাতে শুরু করেন। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইব, হামদি ফাথি, মারওয়ান আত্তিয়াসহ প্রধান কোচ হোসাম হাসানকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। মিশরের ফুটবল ফেডারেশনের দাবি, রেফারির এই অতিরিক্ত কার্ড ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল মিশরীয় দলের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা।
ম্যাচ শেষে ক্ষোভ
ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান সংবাদ সম্মেলনে তার ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “আমাদের পেনাল্টি চেকই করা হলো না, অথচ আমাদের গোলের সময় ৩০ সেকেন্ড আগের ফাউল জুম করে দেখা হলো। ফিফা কি চায় শুধু বড় দলগুলোই পরের রাউন্ডে যাক?”
আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখলেও, এই ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ফুটবল বিশ্বে বিতর্ক সহজে থামছে না। রেফারির এমন পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
খেলাধুলার আরও টাটকা খবরের জন্য চোখ রাখুন খুলনাপিডিয়া (khulnapedia.com)-এ।
